Labour Wing

শ্রম কল্যাণ উইং

০১)     সাধারন তথ্য

 

বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী আইন, ২০১৩ ধারা -২৪ অনুযায়ী ২০১৫ সালে বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্সে শ্রম উইং স্থাপন করা হয় প্রবাসী বাংলাদেশীদের কল্যাণমূলক সেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্সের শ্রম উইং-এ প্রধানত নিম্ন লিখিত সেবাসমূহ প্রদান করা হয়

 

ক )  কল্যাণ t– বাংলাদেশী শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র ও কোম্পানী পরিদর্শন, মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন, হাসপাতাল পরিদর্শন, ডেপোর্টেশন সেন্টার ও জেলখানা পরিদর্শন, ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের ডাটাবেস রেজিষ্ট্রেশন এবং প্রচারণা, বৈধপথে রেমিটেন্স প্রেরণ বিষয়ক প্রচারণা এবং এ সংক্রান্ত বিশেষ অনুষ্ঠান আয়োজন, আইনগত সহায়তা, স্বাস্থ্য সহায়তা, পরামর্শ, সাধারণ সহায়তা, প্রতিবন্ধি ও অসুস্থ কর্মীর জন্য আর্থিক সহায়তা, শিক্ষা সহায়তা, প্রবাসীদের কার্যার্থে মন্ত্রনালয়ের সঙ্গে ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সভা, বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ কমিউনিটির সঙ্গে সভা, বিশেষ প্রোগ্রাম যেমন আইনগত সহায়তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়ার্কশপ, খেলাধুলাসহ প্রবাসীদের বিনোদনের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের অয়োজন।

 

খ) কর্মসংস্থান t- কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং রিক্রুটিং এজেন্সি, নিয়োগকর্তা, উকিল, গ্রিক মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সভাকরণ। মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্ষমতায়ন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে গ্রীক সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রবাসীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করণ।

 

০২ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের ডাটাবেস রেজিষ্ট্রেশন  

 

জুন ২০১৭ হতে ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ড-এ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের মাধ্যমে প্রথম বারের মত বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য অনলাইন ইমিগ্রেশন ডাটাবেস কার্ড প্রদান করা শুরু করেছে। কার্ডধারী প্রবাসীগণ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত যে সকল সুবিধাদি পেয়ে থাকেন তা নিম্নোক্ত ফ্লায়ারে উল্লেখ করা হল

ক) অনলাইন রেজিষ্ট্রেশনের লিংক – http://www.wewb.gov.bd/ যারা অনলাইন রেজিষ্ট্রেশন করতে পারবেন না তারা দূতাবাসে আসলে স্বল্প সময়ের ভেতরে তাৎক্ষনিকভাবে কার্ডটি প্রস্তুত করে দেয়া হয়।

 

খ) ডাটাবেস কার্ডের উপকারিতার প্রচারনার অংশ হিসেবে এবং দূতাবাস থেকে ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের কার্ড গ্রহণ করলে প্রাপ্ত সুবিধাসমূহ জানানোর জন্য “প্রবাসে নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত জীবন” নামে একটি নাটিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

 

নাটকের লিংক- https://www.facebook.com/889553137834615/videos/1997681790539825/

 

০৩মৃতদেহ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত তথ্য

 

শ্রম উইং মৃতদেহ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে গ্রীস এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়, গ্রীসের বাংলাদেশের কমিউনিটি, হিন্দু কমিউনিটি, ফিউনারেল অফিস, মৃত ব্যক্তির আত্বীয়ের সাথে যোগাযোগ, দাপ্তরিক প্রয়োজনীয় কাগজ তৈরিকরণ, গ্রীক সরকারের মেডিকেলের কাগজপত্রসমূহ ট্রান্সলেশন করা, এয়ারপোর্টের সঙ্গে এবং কার্গো কম্পানীর সঙ্গে মৃতদেহ প্রত্যাবর্তনের জন্য যোগাযোগ ও বিমান ভাড়া নির্ধারণ করার কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে।  মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রেরণে গৃহীত কার্যক্রমসমূহ নিন্মরুপ

 

ক) প্রথমে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীস মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রেরণের জন্য দূতাবাসে আবেদন করে (মৃতের সনাক্তকরণ কাগজ- পাসপোর্ট কপি/ জন্ম নিবন্ধনসহ সঠিকভাবে স্বাক্ষরিত ও সীলসহ) ।

 

খ) পরিবারের একজন সদস্য বা একজন বন্ধু অথবা বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন সদস্য দূতাবাসে এসে বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত (NOC) নো অবজেকশন সার্টিফিকেট-এর ফরম পূরণ করেন। যদি মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট না থাকে তাহলে ২ কপি ছবি জমা দিয়ে ট্রাভেল ডকুমেন্ট (TP) সংগ্রহ করতে হয়।  যে ব্যক্তি এ সকল তথ্য প্রদান করেন তাঁর স্বাক্ষর ও পরিচয়পত্র অথবা (ID) কার্ডের ফটোকপি দূতাবাসে সংরক্ষন করে রাখা হয়।

 

গ) মান্যবর রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের কাছে পূর্বোক্ত কাগজসহ মৃতদেহ দেশে প্রত্যাবর্তনের অনুমতির জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়।

 

ঘ) ফিউনারেল অফিসকে একটি অথরাইজেশন লেটার প্রদান করা হয়। তারা মৃতদেহ প্রত্যাবর্তনের সকল ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রীসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে। যদি মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট না থাকে তাহলে মৃত ব্যক্তির তথ্য সম্বলিত দূতাবাসের স্বাক্ষর ও সিলসহ অতিরিক্ত একটি সনদ ফিউনারেল অফিসকে প্রদান করা হয়।

 

ঙ) যৌক্তিক সময় পর ফিউনারেল অফিস গ্রীক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগৃহীত গ্রীক ভাষায় ০৩টি দাপ্তরিক কাগজ ট্রান্সলেশন করার জন্য দূতাবাসে দাখিল করে।

 

চ) এ পর্যায়ে (NOC) পত্রটি (স্বাক্ষর ও সিলসহ অফিসিয়াল প্যাডে) ফ্লাইট নাম্বারসহ (কার্গো কম্পানী হতে সংগ্রহ করে) বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়।

 

ছ) ফিউনারেল অফিস সকল কাগজপত্র ও ট্রান্সলেটেড কপিসহ মৃতদেহ বিমান বন্দরে প্রেরণ করে। যদি মৃতব্যক্তির পাসপোর্ট থাকে তাহলে দূতাবাস তা জমা রাখে এবং তা বাতিল করে দেয় এবং মৃতদেহ পরিবহনের জন্য পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি প্রদান করে। যদি মৃতব্যক্তির পাসপোর্ট না থাকে সেক্ষেত্রে দূতাবাসকে অবশ্যই মৃতব্যক্তির ছবিসহ একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট প্রদান করতে হয়।

 

জ) দূতাবাসের অফিসিয়াল প্যাডে (সিল ও সাইনসহ) মৃতদেহের বিমানের সময়সূচিসহ একটি পত্র বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়।

 

ঝ) বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত বাজেট থেকে ফিউনারেল অফিসের বা কার্গো কোম্পানির দাখিলকৃত বিল অনুযায়ী দূতাবাস মৃতদেহ পরিবহনের জন্য শুধু বিমান ভাড়া প্রদান করে থাকে। বিমান ভাড়া প্রাপ্তির জন্য ফিউনারেল অফিস-কে মৃতদেহ স্থানান্তরের কাজ সম্পাদন করার পর, মৃতদেহ পরিবহন বাবদ বিলের মূল কপি দূতাবাসের হিসাব শাখায় প্রদান করতে হয়।

 

ঞ) দূতাবাসের হিসাব শাখায় ব্যাংকের চেক তৈরি হবার পর ফিউনারেল অফিসকে তা হস্তান্তর করা হয়। মূল চেক গ্রহণের সময় ফিউনারেল অফিসকে অবশ্যই দূতাবাসের হিসাব শাখার সংশ্লিষ্ট কাগজে সাক্ষর প্রদান করতে হয়। চেক হস্তান্তর করার পূর্বে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অবশ্যই অফিস কপি হিসেবে চেকের ফটোকপি সংরক্ষণ করা হয়।

 

ট) দূতাবাস মৃতদেহ প্রেরণ সংক্রান্ত একটি ফাইলে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংরক্ষণ করে এবং একটি নিদিষ্ট রেজিষ্টারে তা লিপিবদ্ধ করে রাখে।

 

০৪দূতাবাসে ফ্রি গ্রীক ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম

 

২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস, শ্রম উইং প্রবাসী বাংলাদেশীদের সামাজিকীকরণ ও শ্রম-বাজারে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষে দূতাবাস প্রাঙ্গঁনে ফ্রি গ্রীক ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশীদের গ্রীক নাগরীকত্ব অর্জনের রাস্তাটি সহজতর হয়েছে। নিম্নলিখিত লিফলেটে-এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে

 

 

০৫অন লাইন বাংলাগ্রীক ভাষা শিক্ষা কোর্স

 

বাংলাদেশ দূতাবাস – গ্রীক ইতিহাস ও সংস্কৃতিসহ গ্রীক ভাষা বিনামূল্যে পাঠদানের পাশাপাশি ডিসেম্বর ২০১৭ সালে দুই জন প্রবাসী বাংলাদেশী নারীর অংশগ্রহণে একটি অন-লাইন বাংলা-গ্রীক ভাষা শিক্ষা কোর্স চালু করেছে। যে সকল প্রবাসী বাংলাদেশীরা দূরত্ব ও কাজের জন্য দূতাবাসে এসে ভাষা শিক্ষার ক্লাশে অংশগ্রহণ করতে পারেন না, মূলত তাদের গ্রীক ভাষা শিক্ষার সুযোগ করে দেবার জন্যই এই কোর্স শুরু করা হয়েছে। যারা নিয়মিত অনলাইনে আমাদের ভাষা শিক্ষা কার্যক্রমটি দেখেন তাদের মাঝে এটি ইতিমধ্যেই ব্যপক সাড়া ফেলেছে। বাংলাদেশ দূতাবাসের ফেসবুক ও ইউটিউবে অনলাইন কোর্সগুলো অনুসরণ করা যাবে।

 

এমন প্রয়োজনীয় কিছু লিংক দেওয়া হল

https://www.facebook.com/889553137834615/videos/vb.889553137834615/467279910575576/?type=2&theater

https://www.facebook.com/889553137834615/videos/vb.889553137834615/209507300206856/?type=2&theater

(০৬) রেমিট্যান্স

 

বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ দূতাবাস, গ্রীসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণের জন্য প্রতিনিয়ত উৎসাহমূলক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।  “বৈধপথে রেমিট্যান্স প্রেরণ” শীর্ষক সেমিনার এবং ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসের মূল কর্মসূচির সময় প্রথমবারের মত সর্বোচ্চ রেমিটেন্স প্রদানকারীকে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে রেমিট্যান্স এওয়ার্ড প্রদান করা হয় এবং পরবর্তী বছরগুলোতেও এর ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়। বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের বৈধ পথে টাকা প্রেরণে উদ্বুদ্ধ করার জন্য “রেমিটেন্স” নামক একটি নাটিকা তৈরী করেছে যেখানে গ্রীসে প্রবাসী বাংলাদেশীরা অংশগ্রহণ করেছেন। নিম্নে রেমিট্যান্স বিষয়ক লিফলেট ও নাটকের লিংক প্রদান করা হল

 

 

প্রয়োজনীয় লিংক  :-।https://www.youtube.com/watch?v=TN8X-4_QsuU

০৭প্রশিক্ষণ কর্মসূচি

 

বাংলাদেশী প্রবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে শ্রম উইং বিভিন্ন কর্মসংস্থানের খাত চিহ্নিত করে গ্রীক শ্রম বাজার অনুসন্ধানে প্রতিনিয়ত গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রীসের শ্রমবাজারে রেষ্টুরেন্ট কর্মীর বড় ধরনের চাহিদা রয়েছে। তাই বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসী বাংলাদেশীদের রেষ্টুরেন্ট সম্পর্কিত প্রশিক্ষণের বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

 

দূতাবাস কর্তৃক একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে রেষ্টুরেন্ট খাতে প্রশিক্ষণ প্রদানের ক্ষেত্রে নিম্নরুপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে t-

  • ট্রেনিং সেন্টারটি অবশ্যই শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত হতে হবে, যেন সহজেই সেখানে যাতায়ত করা সম্ভব হয়।
  • প্রশিক্ষণ কেবল বাংলাদেশি নাগরিকদের সমন্বয়ে ছোট ছোট গ্রুপে ভাগ করে প্রদান করা হবে।
  • সংক্ষিপ্ত আকারে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
  • প্রশিক্ষণে ভর্তির যোগ্যতা সম্পর্কিত তথ্য শ্রম উইং হতে জানা যাবে।
  • অবশ্যই প্রশিক্ষণের শেষে সবাইকে সনদপত্র বিতরণ করা হবে।

 

এই বিষয়ে শীঘ্রই আরও বিস্তারিত তথ্য প্রদান করা হবে।

 

০৮)  প্রবাসীদের কল্যাণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় লিংকসমূহ

 

  • প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয় (MOEWOE) https://probashi.gov.bd/
  • ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ড (WEWB) http://www.wewb.gov.bd/
  • বাংলাদেশ ওভারসিজ ইমপ্লয়মেন্ট এন্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (BOESL) http://www.boesl.gov.bd/
  • জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো ((BMET) http://www.old.bmet.gov.bd/
  • প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (PKB) http://www.pkb.gov.bd/
  • বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফিনান্স কর্পোরেশন (BHBFC) http://www.bhbfc.gov.bd/

______________________________________________________________