প্রবাসী সাহিত্য আসর

May 2, 2018

তোর মতোন কেউ নেই // শাখাওয়াৎ নয়ন

একদিন খুব ভোরে; সুর্য্য তখনো চোখ ডলাডলি করছে; এমন আবছা আলোয় ঘরের বাইরে পা ফেলেই মাহবুব বুঝতে পারলো, আজ তার তেলাপোকা প্রভাত। পায়ের নিচে আলবার্ট ক্যামু’র […]
May 2, 2018

সরো অবাক, ভেবে পায়না সে; চোস্ত ইংরেজি বুঝে স্যার, অশ্রু বোঝেনা ক্যা? // সফিকুল ইসলাম

ক্লাসের সবাই আনন্দ করছে। সরো মন খারাপ করে বসে আছে। পরের ক্লাসটি হু স্যারের। স্যার লুঙ্গি পড়ে স্কুলে আসা সহ্য করেননা। কিন্তু সরো আজও প্যান্ট পড়ে […]
May 2, 2018

জলের উপর তৈরি জলের বৃত্ত // সনতোষ বড়ুয়া

শ্যমলী অপরাজিতা নতুন বন্ধু হয়েছে শ্রাবনের। ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছে অপরাজিতাই। শ্রাবণ সব রিকোয়েস্ট কনফার্ম করে না,শুরুতে প্রোফাইল দেখে, কমন ফ্রেন্ড আছে কিনা দেখে, তারপর ভাল মনে হলে কনফার্ম করে। ইদানীং ফেসবুকে ভুয়া নামে লোকজনের আনাগোনা বেশি, তাই সতর্ক হতেই হয়।অন্যের দোষ খুঁজে লাভ কি, তার নিজেরই তো একাউনট দুইটি। শ্রাবন তার আসল নাম নয়, মজা করার জন্যই এনামে একাউনট খোলা। তাও শ্রাবন সাবধানে থাকে তালিকায় বন্ধু সংযুক্ত করার বেলায়। শ্যামলী অপরাজিতা মেয়েটিকে ফেক মনে হয়নি তার। যদিও আসল নাম কিনা যথেষ্ট সন্দেহ আছে। নিজের নাম ব্যবহার না করলেও ছবি ব্যবহার করেছে অনেক। যারা ফেক আই ডি তে ফেক ছবি ব্যবহার করে তারা বেশি ছবি ব্যবহার করে না।  অপরাজিতা প্রোফাইলে যে ছবি ব্যবহার করেছে সেই ছবিরসাথে পড়ে আপলোড করা অনেক ছবিরই মিল আছে। এতেও শ্রাবন বুঝতে পারে মেয়েটা ফেক নয়। প্রোফাইল ছবিতে দেখা যায়, মাথায় কোঁকড়ানো চুল, মুখাকৃতি গোলাকার, কপালে পড়ে আছে লাল টিপ। মুখাবয়বে একটু হাসি হাসি ভাব রাখার চেষ্টাও করেছে। এছাড়া এলবামেও কিছু ছবি আছে, তবে অনেকনয়, মেয়েরা যেভাবে বেশি বেশি ছবি দেয় সেরকম নয়। হতে পারে বেশি ছবি দেয়া হয়তো তার পছন্দ নয়। সব মেয়ে কি আর এক রকম হয়? শ্রাবণেরও কিছু মাথায় ঢুকলে আর বের হয় না, ঘুরপাক খায় অনেকদিন। এখন ঘুরপাক খাচ্ছে অপরাজিতা শ্যামলী। কেন এক অপরিচিত মেয়ে তাকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠাল? কেন মেয়েটি তাকে পছন্দ করল। সে নিজে নিজেই কিছু কারন মিলিয়ে দেখতে চেষ্টা করে। মেয়েটি কী কবিতা ভালবাসে? হতে পারে।কারন, শ্রাবণ মাঝে মাঝে ফেসবুকে কবিতা পোস্ট করে। ভালবাসতে পারে ছবিও, প্রকৃতির ছবি। মনের মত ছবি তুলে সে তাও পোস্ট করে মাঝে মাঝে।  হতে পারে কবিতা, হতে পারে ছবি, যে কোন একটি বা কবিতা–ছবি দুইই মেয়েটির প্রিয় হতে পারে। না হলে সে কেন একজন অপরিচিত ছেলের ফেসবুক ফ্রেন্ডহতে চাইবে? শ্রাবণ অপরাজিতাকে কনফার্ম করার পর অপরাজিতার টাইম লাইন দেখেছে , সেখানে অবশ্য মেয়েটির কবিতা বা প্রকৃতির ভালবাসার মত কোন পোস্ট খুঁজে পায়নি সে। এমনও হতে পারে – সে হয়তো নিজে কবিতা লিখে না, ছবিও তুলতে পারে না, কিন্তু ভালবাসে। যাক ভবিষ্যতেই দেখা যাবে কারকি পছন্দ। সকাল থেকে আকাশে মেঘ জমেছে। বর্ষার জলবতী মেঘের আনাগোনা বেড়েছে শ্রাবনের ঘুম ভাঙার আগে থেকেই। তাই ঘুম ভাঙতেই শ্রাবণ জানালা দিয়ে দেখতে পেল আকাশ ভর্তি মেঘ। ভীষণ ভাল লাগছে তার। প্রত্যেকদিনের ভোর তাঁর খুবই প্রিয়। ভোরে ঘুম ভাঙলে সে হাঁটতে বের হয়ে যায়, কিছুদূর হেঁটেতারপর বাড়ি ফেরে। একেকদিন একেক দিকে যায়। নতুন পথ আর কত পাওয়া যেতে পারে? তারপরও চেষ্টা করে একটু এদিক ওদিক। হাঁটার পথ যতই তার এক হোক না, কিন্তু ভাল লাগা  নিত্য অন্যরকম। একদিনের সাথে অন্যদিনের মেলে না। প্রত্যেকদিনের ভোর যেন অন্যরকম। রাতে ঘুমোতে যাবারসময় যে পৃথিবী রেখে শ্রাবণ  ঘুমায়, সকালে জেগে সে আর সেই পৃথিবী  দেখে না, দেখে অন্য পৃথিবী। এসব শুধু যে ভাল লাগে তাই নয়, আশ্চর্যও লাগে । এখন ঘরে ঢুকছে ঝির ঝিরে হাওয়া। একটু ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা, বেশ ভালই লাগছে। বৃষ্টি শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। বাতাস শীতল হয়ে আসছে দ্রুত। হতে পারে কাছে কোথাও বৃষ্টি শুরুই হয়ে গেছে। বাতাসের ভেজা স্পর্শ টের পাওয়া যাচ্ছে। শ্রাবণ আই ফোনটা পকেটে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে ঘর থেকে। বাড়ির পশ্চিম পাশে পুকুর পাড়ে পৌঁছে উপরে তাকালে বিশাল আকাশ দেখা যায়, এখানেআকাশ যেন একটু বিশাল। খোলা জায়গায় আকাশ তো বিশাল হবেই। জটপট তুলে নিল আকাশের কয়েকটা ছবি। আই ফোনে খুব ভাল ছবি তোলা যায়। মেঘে ভেজা আকাশের ছবি চমৎকার হয়েছে। পোস্ট করার লোভ সামলাতে না পেরে সাথে সাথেই পোস্ট দিয়ে দিল ফেসবুকে। ছবির নাম দেয়া হল ‘ গগনেগরজে মেঘ’। কিন্তু এ নাম তো তার দেয়া নয়, রবি ঠাকুরের কাছ থেকে ধার করা। ধার করা হোক আর যাই হোক এ নামটাই তার পছন্দ। এখন দুয়েক ফোটা বৃষ্টি পড়ছে। পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়ে শ্রাবন দেখছে পুকুরের পানিতে বৃষ্টির তৈরি জলের বৃত্ত। ছোটবেলা থেকেই বৃষ্টির এ দৃশ্য তার প্রিয়। এখনো প্রিয়। বৃষ্টি হলেই সে জলের উপর জলের বৃত্ত তৈরি দেখতে থাকে। শুধু বৃত্ত দেখলে তো হবে না, সাথে সাথে তুলে ফেলে কয়েকটি ছবিও। আবার সাথেসাথে পোস্ট। এ ছবির নাম দেয়া হল ‘ জলের উপর তৈরি জলের বৃত্ত’। বৃষ্টি একটু একটু বাড়ছে , ভিজে যাচ্ছে মাথার চুল। ভাল লাগছে তারপরও। বেশি ভেজা ঠিক হবে না। বৃষ্টি একটু বাড়তে থাকলে ঘরের পথে পা বাড়ায় শ্রাবন। এসময় ফোনে বেজে উঠল এলারট  টোন। ফোন হাতে নিয়ে দেখে প্রথম লাইক দিয়েছে অপরাজিতা শ্যামলী। একই সাথে ইনবক্সেও এসেছে ম্যাসেজ। শ্রাবন দ্রুত হেঁটে ঘরে চলে আসে। বৃষ্টির মধ্যে বেশি ফোন দেখলে পানি ঢুকেযেতে পারে। পানি ঢুকলে  তো ফোনই শেষ, ছবি তুলবে কি আর। ঘরের ভেতরে একটু অন্ধকার। তবে আলো জ্বালানোর দরকার নাই। আলো জ্বালালেলে তো বৃষ্টি দেখার আনন্দই শেষ। এখন বৃষ্টি নয়, ইনবক্সে ম্যাসেজ দেখাই জরুরী। অপরাজিতা হল নতুন বন্ধু, তার গুরুত্ব একটু বেশি তো হতেই পারে! অপরাজিতা ইনবক্সে  লিখেছে–আপনি দারুন ছবি তুলতে পারেন তো! শ্রাবন উত্তরে লিখল –ধন্যবাদ – আপনার ওখানে কি বৃষ্টি হছে? – হ্যাঁ, তেমন বেশি না। শুরু হয়েছে মাত্র। – আপনার কি বৃষ্টির দিন খুব ভাল লাগে? – ভীষণ। ভীষণ ভাল লাগে, দেখেন না আমার নামও শ্রাবণ ! – আপনার আসল নাম কী? – এ নামটা নকল ভাবছেন কেন? আপনারই বা আসল নাম কী তাহলে? – আমার আসল নাম শ্যামলী, সাথে লাগিয়েছি অপরাজিতা। কারন ওই ফুলটা আমার খুবই প্রিয়। যদি পাই খোঁপায় রাখি। – আমার আসল নামও শ্রাবনের মত, শাওন। আমি শাওনকে শ্রাবণ বানিয়েছি। – কেন? শাওনই তো সুন্দর, আবার শ্রাবন  কেন? – এই একটু বদলানো আর কি। তো আপনি কী করছেন এখন? – কেন? আপনার সাথে চ্যাট করছি! – সঠিক, তাই তো। আচ্ছা আপনি কি কবিতা ভালবাসেন? – একটু একটু – কবিতা লিখেন? – না, কিন্তু হঠাৎ একথা জানতে চাচ্ছেন কেন? – এমনি, মনে হল তাই জানতে চাইলাম। সরি […]
May 2, 2018

শইীদ বোনের কথা // সাঈদা নাঈম

হারমোনিয়াম নিয়ে টিয়া গান গাইছে। আগষ্ট মাস আসলে গানের ধরন অন্যরকম হয়। মুজিবর রহমানকে নিয়ে গান, দেশের গান। টিয়ার বাবা মনযোগ দিয়ে মেয়ের গান শোনে। আর […]