০৩)  মৃতদেহ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত তথ্য 

০৩)  মৃতদেহ প্রত্যাবর্তন সংক্রান্ত তথ্য

 

শ্রম উইং মৃতদেহ দেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে গ্রীস এবং বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়, গ্রীসের বাংলাদেশের কমিউনিটি, হিন্দু কমিউনিটি, ফিউনারেল অফিস, মৃত ব্যক্তির আত্বীয়ের সাথে যোগাযোগ, দাপ্তরিক প্রয়োজনীয় কাগজ তৈরিকরণ, গ্রীক সরকারের মেডিকেলের কাগজপত্রসমূহ ট্রান্সলেশন করা, এয়ারপোর্টের সঙ্গে এবং কার্গো কম্পানীর সঙ্গে মৃতদেহ প্রত্যাবর্তনের জন্য যোগাযোগ ও বিমান ভাড়া নির্ধারণ করার কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে।  মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রেরণে গৃহীত কার্যক্রমসমূহ নিন্মরুপ

 

ক) প্রথমে বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন গ্রীস মৃতদেহ বাংলাদেশে প্রেরণের জন্য দূতাবাসে আবেদন করে (মৃতের সনাক্তকরণ কাগজ- পাসপোর্ট কপি/ জন্ম নিবন্ধনসহ সঠিকভাবে স্বাক্ষরিত ও সীলসহ) ।

 

খ) পরিবারের একজন সদস্য বা একজন বন্ধু অথবা বাংলাদেশ কমিউনিটির একজন সদস্য দূতাবাসে এসে বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত (NOC) নো অবজেকশন সার্টিফিকেট-এর ফরম পূরণ করেন। যদি মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট না থাকে তাহলে ২ কপি ছবি জমা দিয়ে ট্রাভেল ডকুমেন্ট (TP) সংগ্রহ করতে হয়।  যে ব্যক্তি এ সকল তথ্য প্রদান করেন তাঁর স্বাক্ষর ও পরিচয়পত্র অথবা (ID) কার্ডের ফটোকপি দূতাবাসে সংরক্ষন করে রাখা হয়।

 

গ) মান্যবর রাষ্ট্রদূত মহোদয়ের কাছে পূর্বোক্ত কাগজসহ মৃতদেহ দেশে প্রত্যাবর্তনের অনুমতির জন্য নথি উপস্থাপন করা হয়।

 

ঘ) ফিউনারেল অফিসকে একটি অথরাইজেশন লেটার প্রদান করা হয়। তারা মৃতদেহ প্রত্যাবর্তনের সকল ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রীসের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে। যদি মৃত ব্যক্তির পাসপোর্ট না থাকে তাহলে মৃত ব্যক্তির তথ্য সম্বলিত দূতাবাসের স্বাক্ষর ও সিলসহ অতিরিক্ত একটি সনদ ফিউনারেল অফিসকে প্রদান করা হয়।

 

ঙ) যৌক্তিক সময় পর ফিউনারেল অফিস গ্রীক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সংগৃহীত গ্রীক ভাষায় ০৩টি দাপ্তরিক কাগজ ট্রান্সলেশন করার জন্য দূতাবাসে দাখিল করে।

 

চ) এ পর্যায়ে (NOC) পত্রটি (স্বাক্ষর ও সিলসহ অফিসিয়াল প্যাডে) ফ্লাইট নাম্বারসহ (কার্গো কম্পানী হতে সংগ্রহ করে) বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়।

 

ছ) ফিউনারেল অফিস সকল কাগজপত্র ও ট্রান্সলেটেড কপিসহ মৃতদেহ বিমান বন্দরে প্রেরণ করে। যদি মৃতব্যক্তির পাসপোর্ট থাকে তাহলে দূতাবাস তা জমা রাখে এবং তা বাতিল করে দেয় এবং মৃতদেহ পরিবহনের জন্য পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি প্রদান করে। যদি মৃতব্যক্তির পাসপোর্ট না থাকে সেক্ষেত্রে দূতাবাসকে অবশ্যই মৃতব্যক্তির ছবিসহ একটি ট্রাভেল ডকুমেন্ট প্রদান করতে হয়।

 

জ) দূতাবাসের অফিসিয়াল প্যাডে (সিল ও সাইনসহ) মৃতদেহের বিমানের সময়সূচিসহ একটি পত্র বাংলাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করা হয়।

 

ঝ) বাংলাদেশ সরকারের নির্ধারিত বাজেট থেকে ফিউনারেল অফিসের বা কার্গো কোম্পানির দাখিলকৃত বিল অনুযায়ী দূতাবাস মৃতদেহ পরিবহনের জন্য শুধু বিমান ভাড়া প্রদান করে থাকে। বিমান ভাড়া প্রাপ্তির জন্য ফিউনারেল অফিস-কে মৃতদেহ স্থানান্তরের কাজ সম্পাদন করার পর, মৃতদেহ পরিবহন বাবদ বিলের মূল কপি দূতাবাসের হিসাব শাখায় প্রদান করতে হয়।

 

ঞ) দূতাবাসের হিসাব শাখায় ব্যাংকের চেক তৈরি হবার পর ফিউনারেল অফিসকে তা হস্তান্তর করা হয়। মূল চেক গ্রহণের সময় ফিউনারেল অফিসকে অবশ্যই দূতাবাসের হিসাব শাখার সংশ্লিষ্ট কাগজে সাক্ষর প্রদান করতে হয়। চেক হস্তান্তর করার পূর্বে দূতাবাস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অবশ্যই অফিস কপি হিসেবে চেকের ফটোকপি সংরক্ষণ করা হয়।

 

ট) দূতাবাস মৃতদেহ প্রেরণ সংক্রান্ত একটি ফাইলে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য সংরক্ষণ করে এবং একটি নিদিষ্ট রেজিষ্টারে তা লিপিবদ্ধ করে রাখে।