স্মৃতি // মূল রচনা: গ্রীক কবি (জর্জ সেফেরিস), অনুবাদ: মনজুরুল হক

দাঁড়িয়ে আমি হাতে নিয়ে কেবলই শুকনো ঘাস।
সেই রাত ছিল নিঃসঙ্গ, ক্ষয়িষ্ণু চাঁেদর আড়ালে,
মাটিতে ছিল শেষ বৃিষ্টর ঘ্রাণ।
চুপিচুপি বলি আমি: স্মৃিত জাগায় বেদনা যেখনেই লাগে ছোঁয়া,
আছে কেবল ক্ষুদ্র এক আকাশ, নেই সাগর এরপর,
দিনে যা কিছু করে তারা খুন, নিয়ে যায় সবটাই গাড়ি বোঝাই করে আর ফেলে রাখে
ঢালের আড়ালে।
আমার আঙুল রাখে আলতো ছোঁয়া এই বাঁশীতে
বৃদ্ধ রাখাল দিয়েছে যেটা আমাকে শুভ সন্ধ্যা বলেছিলাম বলে।
অন্যরা সবাই করেছে পরিত্যাগ সব অভিবাদন:
ঘুম ভেঙ্গে জেগে উঠে তাঁরা, দাঁড়ি কামায়, এবং এরপর শুভ করে দিনের নিধন কাজ
কেউ যখন কাটছাঁট করে অথবা চালায় ছুিড় সুশৃঙ্খলভাবে কোনরকম অনুরাগ ছাড়াই;
বেদনা এখানে মৃত পেট্রোক্লুেসর মতই আর কেউ করেনা একটিও ভুল।
একটি বাজনা বাজাবো বলে ভেবেছিলাম আমি এবং তখনই লজ্জিত হয়েছি
অন্য জগতের সামনে
সেই জগত যে নজর রাখে আমার উপর আমার নিজের আলোর সীমানার বাইরের
রাতের পেছন থেকে
জীবন্ত দেহ আর নগ্ন হৃদয়ে বোনা
ভালবাসা যার মালিক ক্রোধ
যেভাবে এর মালিকানা হয় মানুষের আর পাথরের আর জলের আর ঘাসের
আরও যেমন সেইসব জন্তুর যারা সরাসির তাকিয়ে আছে
এগিয়ে আসা নিজেরই মৃত্যুর দিকে।
আমি তাই হেঁটে গিয়ে সেই অন্ধকারে পথে
ফিরে যাই আমার বাগানের দিকে আর মাটি খুড়ে পুতে রাখি শুকনো ঘাস
এরপর আবারও বলি আমি চুিপচুিপ: কোন এক সকালে
আসবে পুর্নজন্ম,
বসেন্তে গাছপ্রস্ফুটিত হলে প্রভাতের আলো ছড়াবে দ্যুতি,
সাগর জন্ম নেবের আবার, ঢেউ আবারও ছুটবে বেগে
আফ্রোদিতির দিকে।
আমরা হচ্ছি সেইসব বীজ যা মরে যায়। আর আম ঢুকে যাই আমার শূন্য ঘরে।

  • জাপান