চাণক্য বাড়ৈ

ঈ্শ্বরের দূত  //

 

বাদার মধুই আমাদের মদ– আর অন্ধকার নেমে আসা রাতের জঙ্গলই আমাদের আশ্চর্য অপেরা–

 

আর বিশ্বাস করো, তোমাদের মতো কোনো নাইট ক্লাবের আলো নেই আমাদের চোখে। আছে ঈশ্বরের আশীর্বাদের মতো ঝরে পড়া জোছনা। বিটোফেন শুনি না কখনো– দিনভর মৌমাছিগুলো আমাদের কানের কাছে গুনগুন করে গান গেয়ে যায়।

 

বৃষ্টি হলে ঘাসেরাই নাকি বেশি নাচে, এই কথা বলেছিল নাচের স্কুলের বান্ধবী– আমরা তাই, বৃষ্টি এলে বেরিয়ে পড়ি গেঁয়ো ঘাসেদের পাড়ায়–

 

বহুদিন পর জঙ্গল থেকে ফিরে এলে কোনো হারানো মানুষ– তাকে নিয়ে দিনভর উল্লাসে মাতি– বনবিবির পূজা করি, আর গাই পচাব্দী গাজির গীত–

 

কেননা, একবার ওই জঙ্গল থেকে ফিরে এলে কেউ, আমাদের কাছে সে  ঈশ্বরের প্রেরিত দূত হয়ে যায়—

 

সেলাই //

টেবিলে টেবিলে রোগী– অষ্টপ্রহর জ্বলে অপারেশন থিয়েটারের

আলো– কারও বাইপাস– কারও ওপেন হার্ট– এইভাবে জেনে

যাবে, হৃদ-বিশেষজ্ঞের কাঁচি কতটা ধারালো– অলিন্দে অলিন্দে

ক্ষত– ধমনীতে দিনরাত রক্তের তীব্র অবরোধ– নিলয়ে গোপন

ব্যথা– বাম বুকে মাঝে মাঝে সার্কাসের হাতি দেয় পাড়া– এ এক

এমন অসুখ– একবার হয়েছে যার, সে দেখে যমের চেহারা–

 

ডাক্তার প্রস্তুত আছে, ওষুধ ব্যর্থ যখন, এবার চলবে শুধু ছুরি

আর কাঁচির লড়াই– কাটা-ছেঁড়া শেষ হয়– সময়ের সাথে সাথে ক্ষতরাও

শুকোয় অবশেষে– তারপর, রোগীরাও বাড়ি ফেরে– মহান

চিকিৎসক অনেক যত্ন করে দিয়েছে যে মিহিন সেলাই!