সম্পাদকের কথা

 

‘কতোদিন ধইরা বিদেশ আছি – তবু কী আর কমু ভাই

ঘুমের মইধ্যে একটাবারও অন্য ভাষায় স্বপ্ন দেখি নাই’

আমরা পরের দেশে বিদেশি খাটে ঘুমাই – কিন্তু স্বপ্ন দেখি বাংলায়। বিপদে পড়ে অন্য ভাষায় কথা বলি, কিন্তু হাসি ও কাঁদি শুধুই বাংলায়। আমরা স্যামন মাছ পাতে নিয়ে ইলিশের ঘ্রাণ খুঁজি। টিউলিপের বাগানে গিয়ে মনে মনে শিউলী ফুলের মালা গাঁথি।  আমরা প্রবাসী বাংলাদেশী।

প্রবাসী বাংলাদেশীরা যেখানেই থাক, কখনোই শিকড়কে ভুলতে পারে না। শত ব্যস্ততার মধ্যেও রবীন্দ্রনাথ আর নজরুল ঘুরঘুর করেন আমাদের শিথানে-পৈথানে। হাজারো জীবন সংগ্রামের মধ্যেও প্রবাসীরা সাহিত্য চর্চা করেন। সেই প্রবাসীদের লেখাকে আশ্রয় করে সাহিত্যের উঠানে ছোট্ট করে পা ফেললো ‘প্রবাসী সাহিত্য আসর’। এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের আয়োজনে সারা পৃথিবীর বাংলাপ্রেমীদের নিয়ে শুরু হলো অনলাইন সাহিত্য পত্রিকা ‘প্রবাসী সাহিত্য আসর’।

বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসীরা লিখছেন এই সাহিত্য আসরে। আর প্রবাসীদের সাথে যোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের কবি ও সাহিত্যিকগণ। স্বদেশ আর বিদেশের সাহিত্যপ্রেমীদের মিথস্ক্রিয়া ‘প্রবাসী সাহিত্য আসর’।

এই সাহিত্য পত্রিকার সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন গ্রিসে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত জনাব মো. জসীম উদ্দিন। তার উদ্যোগ এবং পৃষ্ঠপোষকতার কারনেই ‘প্রবাসী সাহিত্য আসর’ আলোর মুখ দেখেছে।  তার প্রতি জানাই সশ্রদ্ধ কৃতজ্ঞতা।

‘প্রবাসী সাহিত্য আসর’ সম্পুর্ণভাবেই একটি সৃজনশীল সাহিত্য পত্রিকা। কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা ধর্মের প্রতি উদ্দেশ্যমূলক কোন লেখা এখানে প্রকাশিত হয় না। লেখার বক্তব্যের দায় একান্তই লেখকের ব্যক্তিগত। এই প্রকাশনার সাথে যুক্ত কেউই পেশাদার সাহিত্যিক নন। এখানে যা কিছু ত্রুটি রয়েছে, তা একান্তই অনিচ্ছাকৃত এবং মার্জনীয়।  এ বিষয়ে আপনাদের সুচিন্তিত পরামর্শ  আমাদের আরো ভালো করতে উৎসাহিত করবে।

এখানে যারা লিখেছেন তাদের অনেকেই নিয়মিত সাহিত্যিক নন। হয়তো কঠিন বিদেশ জীবনের কোন এক ক্লান্ত সন্ধ্যায় তাকিয়েছেন নিজের আরশিতে, আর আনমনে হঠাৎই হাতে নিয়েছেন কি-বোর্ড। সেই আনকোড়া কি-বোর্ডে ঢেউ তুলতে চেয়েছে বিদেশ বিভূঁইয়ে অনেক দিনের শুকনো অশ্রু। অথবা চুইয়ে পরতে চেয়েছে সেই সুদূরের এক টুকরো আবছা হাসি। এই শুকনো অশ্রু আর আবছা হাসির মিথস্ক্রিয়াই ‘প্রবাসী সাহিত্য আসর’।

পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী আর স্বদেশীদের সাহিত্যিক মেলবন্ধন ‘প্রবাসী সাহিত্য আসর’। দেশে এবং বিদেশে যারা লেখা দিয়েছেন, তাদের সকলের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। আশা করছি আপনাদের অংশগ্রহণ এবং অব্যাহত ভালোবাসায় ‘প্রবাসী সাহিত্য আসর’ ধীরে ধীরে সারা বিশ্বের প্রবাসী বাংলাদেশীদের জন্য একটি অনন্য প্লাটফর্ম হয়ে উঠবে। আমাদের সাহিত্য সারা বিশ্বে বিস্তৃত হবে প্রবাসীদের হাত ধরে।

সুজন দেবনাথ
প্রথম সচিব
বাংলাদেশ দূতাবাস, এথেন্স, গ্রীস