লিটন মুহম্মদ
May 3, 2018
সাহানা পারভীন
May 4, 2018

মাসুদুর রহমান

মার্চ করে ওরা এসেছিল মার্চে

 

মার্চ করে ওরা এসেছিল মার্চে

মাথায় নতুন প্রভাত সূর্য

চোখে নিয়ে রণ তূর্য

নির্ভীক ওরা এসেছিল মার্চে

কাঁধে বাঁশের লাঠিতে টিফিনের আধখানা রুটি

উদ্ধত দেহ যেন লাল সবুজ পতাকার খুটি

মার্চ করে ওরা এসেছিলো রক্তিম ভোরে

যন্ত্রীবাদকবিহীন রণ সংগীতের কী উন্মাদনা রোলে

দ্রিম দ্রিম হৃৎপিণ্ডে বেজেছিলো অযুত মুক্তির ঢাক

মার্চ করে এসেছিলো ওরা বিমূর্ত জলপ্রপাত

 

মার্চ করে এসেছিল সবুজ বৃক্ষ আশ্রিত তরুলতা

মার্চ করে এসেছিল তারুন্যে দীপ্ত কৃষক জনতা

শিকড় পোড়া অস্তিত্বের সংকটে

শস্যহীন সুজলা সুফলা বন্ধকে

শিকড় উপড়ানো সবুজ দেহগুলো

বিকল মোচড়ানো ভঙ্গুর শিল্পগুলো

যেন সহাস্যে সারি সারি দাড়িয়ে গেলো প্যারেডে

 

মার্চ করে এসেছিল নির্বাক শিশু তৃষিত মাতৃভাষা

মার্চ করে এসেছিল সবাক মাতা ঈপ্সিত জয়গাঁথা

অকুণ্ঠ নির্ভিক দ্বিধাহীন উচ্চারণে
ব্যাকুল বিস্ময়ে শর্তহীন সম্ভাষণে

শিকল ছেড়া নতুন স্বপ্নগুলো

বিফল হেরে যাওয়া গল্পগুলো

যেন মৃদঙ্গে সুরে সুরে মাতিয়ে গেলো মাদলে

 

মার্চ করে এসেছিল কবিতার এই হৃদয় সরোবরে

প্রেম, ভালোবাসা, রাগ, বিরাগ, উত্তর, প্রতি উত্তর

মার্চ করে এসেছিলো একে একে নিভৃত মন মুকুরে

ঊনিশ শো’ বাহান্ন, চুয়ান্ন, ছেষট্টি, ঊনসত্তর, সত্তর

 

মার্চ করে এসেছিলো শ্লোগানমুখর ঝাঁঝালো দুপুরে

অকুতোভয় লক্ষ নিযুত বাঙালি মেখে রক্ত রোদ্দুর

মার্চ করে এসেছিলো প্রমত্ত বেগে এই বঙ্গোপসাগরে

পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ধলেশ্বরী, কর্ণফুলী আর পশুর

 

কত উৎপীড়ন ভ্রূকুটি লাঞ্ছনা

কত ভ্রূক্ষেপহীন নিকুচি যন্ত্রণা

কত নির্বাক পদাবলী বচন

কত মৃত্যুহীন শব্দাবলী চয়ন

 

শত সহস্র শতাব্দীর গঞ্জনা নিঃশেষে

মার্চ করে ওরা এসেছিলো ঢাকার রেসকোর্সে

শ্বেত শুভ্র সোনালী  স্বপ্নে

মার্চ করে এসেছিলো ওরা দীপ্ত পায়ে

দিগন্তে নিঃশেষ অথৈ জন সমুদ্রে

মার্চ করে নেমেছিল নীলাকাশ

এই দূর্বাদলে ঢাকা জনারণ্যে

মহাকাল এসে থমকে মিশে

গিয়েছিলো এখানে এক মহাকাব্যে

সেই থেকেই শাশ্বত আমাদের উচ্চারণে

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

 

ঢাকা

৭ মার্চ ২০১৯

 

 

 

এসো বসন্ত

 

সতত ফাগুন এলো যুগল ধরায় অফুরান কী বৈভবে

ফুলে নিকষিত মধুময় দেহমন দোলে জীবন্ত উৎসবে

দুটি কুড়ি দুটি ফুলে মেলে ডানা প্রজাপতি হিন্দোলে

কত গান কত সুরে নাচে প্রাণ দলে জরা বহ্নি জলে

 

মূলত পরাণে পোড়ে স্বর্ণ উদয় অগুনিত স্বপ্ন ভোর

হৃদয় খোলে বন্ধ জানালা ঘুচায়ে অমানিশার ঘোর

কাঁচা সূর্যহলো সিক্ত নব বিশ্ব উদ্ভাসিত ঊষায়

বহে বায়ু কহে কানে চুপিচুপি ভালোবাসো তোমায়

 

পাতক পরাণে জোড়ে প্রাণ পাতকী মঞ্জুরিত শাখে

উদাসী হাওয়ায় উড়ে চলে মন মেঘ শ্বেত শুভ্র পাকে

দুটি পাখি দুটি ডালে বসে ভাবে বিকশিত নব পল্লবে

কত রঙ কত প্রাণে গড়ে স্বর্গ ভাঙে মর্ত্য কী গৌরবে

 

এসো বসন্ত মুক্ত বিহঙ্গ এসো উড়ে দেখো বিশ্ব ভূলোক

ধরণী তলে দোলে শত সূর্যমুখী পড়েনা চোখের পলক

এসো বকুল রক্ত করবী গেঁথে দাও মালা পরবো ফাঁসি

এসো দেহ প্রাণে মাখি প্রভাতে জ্বলা মুক্তো রাশি রাশি

কত আশা কত ভালোবাসা রচে যায় কত স্বপ্ন বিলাসে

জাগে জন্ম নেভে মৃত্যু জ্বলে জ্যোৎস্না এই রক্ত পলাশে

 

ঢাকা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

কবিতা মানে জীবন বিক্রি করা

কবিতা মানে জীবন বিক্রি করা
কবিতা মানে যাও পাখি ঘরে ফেরা
কবিতা মানে জীবন ঘুটে সরেস চাঙ্গা
কবিতা মানে জীবন গড়ে আবার ভাঙা

রক্তে জলে ঘুটে হয় কি আর কাদা
কবিতা মানে স্বপ্ন ঘুমে হয় পঙ্খিরাজ সাদা
বৃষ্টি জলে অশ্রু মিশে হয় কি আর সাগর কন্যা
কবিতা মানে দৃষ্টির সীমানায় প্রক্ষেপণে এক ঝর্ণা
নক্ষত্র বাড়িতে আলো চুরি করে কি হয় কৃষ্ণ আঁধার
কবিতা মানে আলোক পারাপার

কবিতা মানে হৃদয়ে দারুণ খরা
কবিতা মানে মন পাখি বৈঠা ধরা
কবিতা মানে জন্ম থেকে জ্বলা
কবিতা মানে কর্ষিত মৃত্তিকা দলা

কবিতা মানে স্থিতি
সম্পর্কহীন আস্পর্ধায় পরিমিতি
কবিতা মানে গতি
গভীরতার সন্ধানে স্বীকৃতি

কবিতা মানে দেহ শুন্য পরম ভার
কবিতা মানে অন্তর্গত আপেক্ষিকতার
কবিতা মানে মহা বিস্ফোরণ
কবিতা মানে কবিতার কাছে সময়ের সমর্পণ।

  • দুবাই