অকাব্যিক স্বীকারোক্তি, ২  //  গাজী নিষাদ

 

প্রতিটি প্রেমের কবিতা, এপর্যন্ত যা আমি সৃষ্টি করেছি

প্রায় সবই প্রশংসা করেছে তোমার, তোমার রঁজনবৈচিত্র‍্য ও যৌন পবিত্রতার

প্রথমেই আমি তোমার বয়সকে অমরত্ব দিয়েছি আমার লেখায়

দ্বিতীয়ত, তোমার সুকৃতির অভিষেক করেছি প্রাকৃত সৌন্দর্যের মাধ্যমে- যা তুমি অর্জন করেছিলে

পরবর্তীতে আমি কবিতাগুলি উন্মুক্ত করে দিই সাধারণ মানুষের জন্যে,

যেন ওদের মধ্যে তুমি একজন দেবী হয়ে ওঠো অথবা শ্রেষ্ঠতমা প্রেমিকা

এবং লোকেরা যেন ভালোবাসার মাহাত্ম্য অনুভব করতে পারে

আর তারা তা প্রণিধান করতে পারে তাদের জীবনে

 

প্রতিটি প্রেমের কবিতা, এপর্যন্ত যা আমি সৃষ্টি করেছি

তোমার রঁজনবৈচিত্র‍্য ও যৌন পবিত্রতাকে আমি যদি এবার উলটে দিই নিন্দা ও ঘৃণায়

প্রথমেই তোমার বয়সের অমরত্বকে খুন করবে আমার সৃষ্টি

দ্বিতীয়ত, ভুল বলে অস্বীকার করবে তোমার সুকৃতি ও প্রাকৃত ধর্মকে, যা তুমি কখনোই অর্জন করোনি

পরবর্তীতে কবিতাগুলি আমার জীবদ্দশায় আমি করে যেতে পারি সংকোচননামায় মোহরাঙ্কিত

যেন মানুষের কাছে তোমার নাম পুনর্বার হয়ে ওঠে দেবীর বিপরীত শব্দ

এবং লোকেরা যেন জিঘাংসারও কদর্যতা সম্পর্কে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে

আর তারা তা প্রণিধান করতে পারে তাদের জীবনে

 

প্রিয়, নির্দেশিত এ দুই স্তবকই হলো সেই প্রচলিত উদাহরণ, যা আমি কখনোই তোমাকে আরোপ করবোনা

আর তোমাকে নিয়ে আমার লেখা কবিতাগুলি হচ্ছে তা- যা আমি কখনোই লিখতে পারিনি..

শান্তিনিকেতন, কলকাতা